যাকাত:
সালাতের পরেই যাকাত আদায়ের গুরুত্ব। যাকাত সম্পদকে পবিত্র করে। যাকাত গরিব ও মিসকিনের হক।
স্বর্ণ , রূপা, অর্থ (নগদ বা জমানো), ফসল ,গবাদি পশু ,ব্যবসার মালামাল, দোকান/ফ্ল্যাট/যানবহন থেকে প্রাপ্ত ভাড়া, ইত্যাদি নিসাব পরিমান সম্পদ ১বছর থাকলে তাঁর যাকাত দিতে হবে। শুধুমাত্র প্রয়োজনাদি পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে যে ঋণ নেওয়া হয় তা বাদ দেওয়া যাবে ।
মোট সম্পদের পরিমান ২০,০০০ টাকার বেশি হলেই যাকাত দিতে হবে [৫]। চন্দ্রমাস অনুযায়ী হিসাব করতে হবে, যে কোন মাসেই আদায় করা যায় । যে কোন সম্পদ হস্তগত হওয়ার পর ১ বছর হলেই যাকাত দিতে হবে।
বিঃদ্রঃ বিস্তারিত জানতে অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নিন । সাবধানতার সাথে সঠিকভাবে হিসাব করতে হবে কারন এটা ফরয ইবাদাত। মনে রাখতে হবে মানুষকে ফাঁকি দেওয়া সহজ কিন্তু আল্লাহ্কে অসম্ভব।
নিসাব পরিমান সম্পদের হিসাবঃ
৭.৫ তোলা স্বর্ণঃ (২.৫%)
স্বর্ণ ও স্বর্ণ অলংকার। [১]
৫২.৫ তোলা রূপার মূল্যের সমতুল্যঃ (২.৫%)
হাতে রক্ষিত অথবা ব্যাংকে নগদ গচ্ছিত অর্থ, শেয়ার সার্টিফিকেট, প্রাইজবন্ড ও সার্টিফিকেট সমূহ।
রৌপ্য, মূল্যবান ধাতু বা এগুলো দিয়ে তৈরি অলংকার। [১]
বাণিজ্যিক সম্পদ ও শিল্পজাত ব্যবসায় প্রতিশ্রুত লভ্যাংশের ভিত্তিতে প্রদত্ত অর্থ।
ব্যবসার উদ্দেশ্যে মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগী পালন এবং ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত জমি, নির্মিত বাড়ী প্রভৃতির বাজার মূল্যের হিসাব হবে। [৪]
সরকারী নিয়মানুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ডের কর্তৃনকৃত টাকা গ্রহণ করার পর একবছর পূর্ণ হলে সম্পূর্ণ টাকার উপর যাকাত প্রদান করতে হবে।
কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির উদ্যোগে প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন করা হলে প্রতি বছর তার উপর যাকাত দিতে হবে।
উৎপাদিত কৃষিজাত ফসলঃ ( শুকিয়ে সংরক্ষণযোগ্য - রবিশষ্য ও ফলফলাদি )
বৃষ্টির পানিতে উৎপাদিত ফসলের উশর ১/১০ অংশ,
সেচে উৎপাদিত জমিরফসলের ১/২০ অংশ
অথবা শস্যের বাজার মূল্যের সমপরিমাণ প্রতি মৌসুমে আদায়যোগ্য।
বিঃদ্রঃ কাঁচামাল - বিক্রয়ের অর্থ নিসাব পরিমান হলে তাতে যাকাত দিতে হবে।
পশু সম্পদঃ
(ক) ভেড়া বা ছাগল প্রভৃতি।
৪০থেকে ১২০টি => ১টি
১২১ থেকে ২০০টি => ২টি
২০১ থেকে ৩০০টি => ৩টি
এর অতিরিক্ত প্রতি ১০০টির যাকাত => ১টি করে
(খ) গরম্ন, মহিষ ও অন্যান্য গবাদি পশু।
৩০ থেকে ৩৯টি => এক বছর বয়সী ১টি বাছুর
৬০টি এবং ততোধিক => প্রতি ৩০টির জন্য ১ বছর বয়সী এবং প্রতি ৪০টির জন্য ২ বছর বয়সী বাছুর।
খণিজ দ্রব্যঃ
উত্তোলিত খণিজ দ্রব্যের শতকরা ২০ ভাগ।যে সকল জিনিসে যাকাত নেইঃ
বসবাসের জন্য বসত ভিটা, ঘর-বাড়ি, ফসলের জায়গা-জমি, বাড়ির ব্যবহারিক আসবাবপত্র, ব্যবহারের জন্য গাড়ি, ভাড়ার জন্য বাস, ট্রাক, লঞ্চ ইত্যাদি পরিবহন, ভাড়ার জন্য তৈরিকৃত আবাসিক বিল্ডিং বা দোকান, নিজস্ব দোকান, দোকানের জায়গা ও ফার্নিচার (তবে দোকানের পণ্যের যাকাত দিতে হবে) ইত্যাদি। এগুলোতে যাকাত নেই।
পুকুরের মাছেও যাকাত নেই। তবে মাছ বিক্রয়ের অর্থ যদি নিসাব পরিমান হয় তাহলে তাতে যাকাত দিতে হবে।
কাঁচামাল-যেমন, শাক-সবজি, আম, কাঠাল, লিচু ইত্যাদি ফলমূলে যাকাত নেই। তবে এগুলো বিক্রয়ের অর্থ নিসাব পরিমান হলে তাতে যাকাত দিতে হবে।
অনুরূপভাবে দোকান, আবাসিক বিল্ডিং, বাস-ট্রাক-যানবাহন ইত্যাদিতে যাকাত নাই। কিন্তু এগুলো থেকে প্রাপ্ত ভাড়া নিজের অন্যান্য অর্থের সাথে যুক্ত করে নিসাব পরিমান হলে যাকাত বের করতে হবে।
জায়গা-জমি, গবাদী পশু ও বিল্ডিং ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করলে সেগুলো ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে যাকাত দিতে হবে।
সোর্সঃ যাকাত সম্পর্কে আলোচনা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
১। সুনানে আবু দাউদ ১/২৫৫, ১/২২১;সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪৪৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৭৯; সুনানে নাসায়ী হাদীস ২২৫৮; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৫৪-৭০৬১,৭০৬৩-৭০৬৫; ৭০৭৭, ৭০৮২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ৯৯৭৪;৬/৪৬৯-৪৭১
২। মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭০৬১; ৭০৬৬; ৭১০২, ৭০৯১,৭০৯২
৩। মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৩২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩২৫
৪। সুনানে আবু দাউদ ১/২১৮; সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪/১৫৭; মুয়াত্তা ইমাম মালেক পৃ ১০৮; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১০৫৫৭, ১০৫৬০, ১০৫৬৩
৫। মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬,৭০৮১,; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩; ৯৯৭৯,১০৬৪৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩০৩;
৬। মুয়াত্তা মালেক ১০৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০০৩, ৭০৮৬, ৭০৮৭, ৭০৮৯, ৭০৯০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫৪৭-৫৪৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৩